কিডনির রোগে নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। প্রায় সব মেয়েরা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট উদাসীন থাকেন। অনেক সময় উপসর্গ এড়িয়ে যাওয়ায় কিডনির ক্রনিক অসুখ ধীরে ধীরে ক্ষতি করে। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ মহিলা এই রোগে মারা যান।
নারীরা কেন বেশি কিডনি রোগের ঝুঁকিতে?

বিশ্বজুড়ে কিডনির দীর্ঘস্থায়ী রোগ (ক্রনিক কিডনি ডিজিজ) দ্রুত বাড়ছে, আর এর মধ্যে নারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর প্রায় ৬ লাখ নারী এই রোগে মৃত্যুবরণ করেন।
নারীদের মধ্যে এই রোগের হার বেশি হওয়ার প্রধান কিছু কারণ হলো:
- অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস : অনেক সময় রোগী নিজেই জানেন না যে তিনি এ ধরনের রোগে আক্রান্ত।
- চিকিৎসার প্রতি অবহেলা : বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা অসুস্থ না হলে চিকিৎসকের কাছে যান না। এতে রোগ ধীরে ধীরে জটিল আকার ধারণ করে।
- লুপাস নেফ্রাইটিস ও ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (UTI) : এগুলো নারীদের মধ্যে বেশি হয় এবং কিডনির ক্রনিক অসুখে রূপ নিতে পারে।
- গর্ভাবস্থার জটিলতা : গর্ভকালীন রক্তচাপের ওঠানামা এবং ঘন ঘন মূত্রনালির সংক্রমণ কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
কিডনির রোগের প্রাথমিক লক্ষণ

কিডনির অসুখ অনেক সময় ধীরে ধীরে শরীরে প্রভাব ফেলে। উপসর্গগুলো উপেক্ষা করলে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। যেমন—
- প্রস্রাবের রঙ, গন্ধ বা ফ্রিকোয়েন্সিতে পরিবর্তন
- হাত-পা বা চোখে ফোলা আসা
- মাথা ব্যথা বা বমি ভাব
- প্রচণ্ড ক্লান্তি বা দুর্বলতা
- রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া
এই উপসর্গগুলির যেকোনোটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
প্রতিরোধ ও যত্নের উপায়
- সঠিক অভ্যাস ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা কিডনিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। কিছু কার্যকর উপায় হলো:
- পানি পান : পর্যাপ্ত পানি পান করুন। দিনে কতটা প্রয়োজন তা চিকিৎসকের পরামর্শে নির্ধারণ করুন।
- শরীরচর্চা ও ওজন নিয়ন্ত্রণ : নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং ওজন স্বাভাবিক রাখুন।
- রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ : নুন, চিনি, ধূমপান ও অ্যালকোহল সীমিত রাখুন।
- খাদ্যাভ্যাসে সতর্কতা : প্রাণিজ প্রোটিন (মাছ, ডিম, মুরগি) সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : যাঁদের রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস আছে, তাদের বছরে অন্তত একবার ইউরিন টেস্ট, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন ও অ্যালবুমিন পরীক্ষা করানো উচিত।
ডাক্তারের পরামর্শ : যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
শেষ কথা

কিডনি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। শরীরের বিষাক্ত উপাদান বের করে দিয়ে সুস্থ রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম। তাই নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে উদাসীন না হয়ে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সচেতন জীবনযাপনের মাধ্যমে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।

