মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

গর্ভাবস্থায় খেজুর খেলে কী উপকার

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২১, ২০২৫

প্রিন্ট করুন
গর্ভাবস্থায়

গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়ার প্রচলন নতুন কিছু নয়। বহু বছর আগে যখন চিকিৎসাসেবা এত সহজলভ্য ছিল না, তখনও গর্ভবতী নারীদের খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতো। কারণ, খেজুর শুধু পুষ্টি জোগায় না, বরং প্রসব বেদনা কমাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে।

গর্ভাবস্থায় খেজুরের ভূমিকা

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেজুর খেলে ইউটেরাসের সংবেদনশীলতা কমে এবং জরায়ু শক্তিশালী হয়। এর ফলে প্রসব ব্যথা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। এছাড়া খেজুরে থাকা ফ্রুক্টোজ দ্রুত ভেঙে গিয়ে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ পরিবর্তন করে না।

খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ জরায়ুর সংকোচনে সহায়তা করে, যা প্রসব প্রক্রিয়াকে সংক্ষিপ্ত করে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

‘ফেমিনা ডটইন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পুষ্টিবিদ ও নিউট্রিসি লাইফস্টাইলের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রহিনি পাতিল বলেন,

“গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়া পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে খেজুর খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।”

গবেষণা কী বলছে?

আমেরিকার ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (NCBI)-এর এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে—

গর্ভাবস্থার ৩৫তম সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন ৬টি খেজুর খেলে মা ও শিশুর জন্য তা অত্যন্ত উপকারী।

খেজুর খাওয়া নারীদের সার্ভিক্স বেশি ফ্লেক্সিবল ছিল, ফলে প্রসব সহজ হয়েছে।

নিয়মিত খেজুর খাওয়ায় লেবারের সময়ও কমেছে, যার ফলে প্রসব বেদনা তুলনামূলকভাবে কম অনুভূত হয়েছে।

গর্ভাবস্থায় খেজুরের উপকারিতা

বাড়তি শক্তি যোগায়

সন্তান প্রসবের আগে ও প্রসবের সময় প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। খেজুরে থাকা নিউট্রিয়েন্টস মায়ের শরীরে শক্তির যোগান দেয় এবং প্রসবের সময় ক্লান্তি কমায়।

কার্বোহাইড্রেটের উৎস

গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়ার উপকারিতা

খেজুরে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ ও গ্লুকোজ থাকে। এগুলো শরীরকে তাত্ক্ষণিক শক্তি জোগায় এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে।

প্রসবপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক করে

গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রতিদিন ৬০–৮০ গ্রাম খেজুর খেলে সার্ভিক্স মজবুত হয়। এতে প্রসব স্বাভাবিকভাবে হতে সাহায্য করে এবং কৃত্রিমভাবে প্রসব ব্যথা সৃষ্টি করার প্রয়োজন হয় না।

রক্ত উৎপাদন বাড়ায়

প্রসবের সময় মায়ের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষয় হয়। খেজুর নিয়মিত খেলে দ্রুত রক্ত উৎপাদন হয়, ফলে মা তার শক্তি ফিরে পান।

প্রসব বেদনা কমায়

খেজুরে থাকা ফ্যাটি এসিড সার্ভিক্যাল মাসলকে নমনীয় করে, ফলে প্রসব বেদনা তুলনামূলকভাবে কম হয়।

পুষ্টিতে ভরপুর

খেজুরে আঁশ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, লৌহ, ফোলেট, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন কে রয়েছে। এসব উপাদান গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যা গর্ভাবস্থায় খুব সাধারণ সমস্যা।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

খেজুরে উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম থাকায় এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। যেসব মায়ের গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হয়, তাদের জন্য এটি উপকারী।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার

খেজুরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ফেনোলিক যৌগ থাকে, যা ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং মা–শিশুর সার্বিক সুস্থতা নিশ্চিত করে।

শেষ কথা

গর্ভাবস্থায় খেজুর খাওয়া শুধু শক্তি ও পুষ্টি জোগায় না, বরং প্রসব প্রক্রিয়াকেও সহজ করে। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের ক্ষেত্রে খেজুর খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।