বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ইরানে ইসরাইলি গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত আলী আরদেস্তানি নামের এক ইরানি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) দেশটির বিচার বিভাগীয় বার্তা সংস্থা মিজান নিউজ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরদেস্তানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ছবি ও ভিডিও মোসাদকে সরবরাহ করেছেন এবং এর বিনিময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ আইনি শুনানি শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এই চরম দণ্ড প্রদান করেন।

গত বছরের জুনে ইসরাইলের সাথে ইরানের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর থেকেই দেশটিতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর থেকে তেহরান গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তবে নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ (আইএইচআর) এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম দাবি করেছেন, এই সাজা কোনো প্রকার ন্যায়বিচার ছাড়াই কেবল জোরপূর্বক স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, যার কোনো আইনি বৈধতা নেই।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, গত জুনের যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অন্তত ১২ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভের পর এটিই প্রথম কোনো গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।

বিশ্লেষকদের মতে, বিক্ষোভের মধ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ইসলামি প্রজাতন্ত্র মূলত সাধারণ জনগণের মাঝে ভীতি সঞ্চার করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে চীনের পর ইরানেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার রেকর্ড রয়েছে, যা গত বছর অন্তত ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে।

এদিকে মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘকাল ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন যে, এসব প্রক্রিয়ায় অনেক সময় নির্দোষ ব্যক্তিদের বলির পাঁঠা বানানো হয়, যেখানে প্রকৃত এজেন্টরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

চলমান পরিস্থিতির মধ্যে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাদের ফার্সি ভাষার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ইরানি নাগরিকদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই বৈরী দেশের মধ্যকার অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি গোয়েন্দা তৎপরতা এক জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।