আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শহীদের পর শোকাতুর ইরান আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে সংবিধান অনুযায়ী উত্তরাধিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট, বিচারবিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদের একজন ফকিহকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল সাময়িকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস) অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থায়ী উত্তরসূরি বেছে নেবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে উত্তরাধিকার কাউন্সিলের কাজ শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি খামেনির হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘বিশাল অপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করে দেশে সাত দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের শোককাল ঘোষণা করেছেন।
৮৬ বছর বয়সি খামেনি শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ হামলায় নিহত হন, যে হামলায় তার পরিবারের সদস্যসহ অন্তত ২০১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর যেভাবে খামেনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, ঠিক তেমনি এবারও ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নতুন নেতা নির্বাচন করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের নজিরবিহীন লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন, এর ফলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক ও জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, খামেনি কেবল ইরানের রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় নেতা ছিলেন।
মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের লক্ষ্য সফল হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না। অতীতেও দীর্ঘ যুদ্ধের পর প্রতিপক্ষকে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করতে হয়েছিল এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এই হামলাকে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করা হিসেবে বর্ণনা করে চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ওমান, দুবাই ও দোহার মতো অঞ্চলে ইরানের পালটা হামলার খবর পাওয়া গেছে।
তবে আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে ইরান প্রতিবেশীদের লক্ষ্যবস্তু করতে চায় না এবং এই যুদ্ধ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে বরং হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার আহ্বান জানান।

