শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিরোনাম

কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যেও ইউরোপে বেড়েছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন বাড়লেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে সামগ্রিকভাবে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। কঠোর অভিবাসন নীতি, বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগের কারণে এই প্রবণতা দেখা গেছে। তবে এ সময়েও আশ্রয় আবেদনের সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের (ইইউএএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ৩ লাখ ৩২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এ সংখ্যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম এবং ২০২১ সালের পর বছরের প্রথমার্ধে সর্বনিম্ন।

ইইউএএর মতে, সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দেশটির নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি উত্তর আফ্রিকার কয়েকটি দেশসহ উৎপত্তি ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে ইইউর সহযোগিতাও আবেদন কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিউনিসিয়া ও মৌরিতানিয়ার মতো দেশের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় অর্থনৈতিক সহায়তার বিনিময়ে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সবচেয়ে বেশি আশ্রয় আবেদন করেছেন আফগানিস্তানের নাগরিকরা, যার সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজার। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা এবং তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩২৭। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৫২১ জনে, যা প্রায় ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

তবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও বাংলাদেশিদের আবেদন অনুমোদনের হার অত্যন্ত কম। ইইউএএ জানিয়েছে, যেসব দেশের আবেদন মঞ্জুরের হার ২০ শতাংশের নিচে, সেসব দেশের আবেদন দ্রুত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং প্রত্যাখ্যাত হলে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশও এই তালিকায় রয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে বাংলাদেশিদের প্রথম ধাপের আবেদন অনুমোদনের হার ছিল ৫ শতাংশেরও নিচে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশেরও কম অনুমোদন পেয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ, মিসর, ভেনেজুয়েলা ও তুরস্কের মতো দেশ থেকে আসা আবেদনগুলো বিশেষভাবে দ্রুত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হচ্ছে।

ইইউ সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবেদন গ্রহণ করেছে ফ্রান্স, যেখানে ৬৯ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এরপর রয়েছে ইতালি ও স্পেন। জার্মানিও প্রায় ৫৫ হাজার আবেদন পেয়েছে। এই চার দেশেই মোট আবেদনের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জমা হয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে গ্রিসে।
এদিকে, জুনের শেষে ইইউ অঞ্চলে প্রথম ধাপে প্রায় ৭ লাখ ৭০ হাজার আশ্রয় মামলা প্রক্রিয়াধীন ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কম। তবে প্রশাসনিক ও বিচারিক সব ধাপ মিলিয়ে মোট অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছেছে।

অপেক্ষমাণ মামলার তালিকাতেও বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ধাপেই প্রায় ৩৬ হাজার বাংলাদেশির আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। ভেনেজুয়েলা, সিরিয়া, কলম্বিয়া ও পেরুর পরই অবস্থান বাংলাদেশিদের। নতুন আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়লেও পুরোনো মামলার জট কমেনি। ফলে ইইউজুড়ে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা মামলার হার বেড়ে ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইইউএএর তথ্য বলছে, সামগ্রিকভাবে আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা কমলেও বাংলাদেশ থেকে আবেদনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অনুমোদনের নিম্নহার ইউরোপে অভিবাসন প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে সামনে এসেছে।