ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা দীর্ঘদিনের একটি অজুহাত। তেহরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি বলে দাবি করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হোসেন রইভারান।
আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
হোসেন রইভারান বলেন, ‘পরমাণু অস্ত্র অর্জন নিষিদ্ধ করে একটি ধর্মীয় ফতোয়া রয়েছে। ইরান যদি এমন অস্ত্র অর্জন করতে চাইত, তাহলে দ্রুতই তা করতে পারত। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেই।’
তিনি বলেন, গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা, যুদ্ধ এবং হামলার যৌক্তিকতা দেখাতে ইরানের পরমাণু ইস্যুকে ব্যবহার করে আসছে। এর মধ্যে স্কুল, ক্রীড়া কেন্দ্র এবং সর্বশেষ বিয়ের অনুষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘তাই আমি মনে করি, এটি নতুন কিছু নয়। একই ধরনের বক্তব্যের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র তার সব অপরাধকে লুকানোর এবং সেগুলোর যৌক্তিকতা দেখানোর চেষ্টা করছে।’
ভেস্তে যাওয়া পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে রইভারান বলেন, ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। কয়েক দিনের মধ্যে ওই সমঝোতার একটি খসড়া চুক্তি সই হওয়ার কথা ছিল। এতে তেহরান তার পরমাণু কর্মসূচিকে সামরিকীকরণ না করার প্রতিশ্রুতি দিতে সম্মত হয়েছিল।
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কে যুদ্ধে গেল এবং চুক্তিটি ভেস্তে দিল? ট্রাম্প। নির্বাচনের পর আগামী দিনগুলোতে ট্রাম্প যদি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন, তাহলে ইরানের কাছেও প্রয়োজনীয় সব উপকরণ রয়েছে। ইরান এখন সব মার্কিন নৌযান ডুবিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এর পরিণতি হবে বলেই তারা তা করছে না।’
রইভারান আরও বলেন, ইসরাইলের চাপের কারণেই ওই সমঝোতা ভেস্তে যায়।

