নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে বনভোজন মৌসুম। প্রতি সপ্তাহান্তেই নানা আঞ্চলিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করছে আনন্দঘন বনভোজন। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝে মিলনমেলা ও নির্মল বিনোদনের এমন আয়োজন দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ জুলাই শনিবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের বেথপেজ স্টেট পার্কের ঈগল প্যাভেলিয়নে অনুষ্ঠিত হলো প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন নীলফামারী ডিস্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন ইউএসএ-এর বার্ষিক বনভোজন। দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে অংশ নেন নিউইয়র্ক সিটি ও লং আইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রবাসী নীলফামারীবাসী।
রঙ-বেরঙের বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, নীলফামারীর সন্তান ও আয়োজক সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট শিল্পপতি হাসানুর রহমান হাসান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “নীলফামারীবাসীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। এ সংগঠনের সাথেও আমাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। প্রবাসেও আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।” তিনি সুশৃঙ্খলভাবে বনভোজন আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিজাত গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান, নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি ও উপদেষ্টা ডা. আবদুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক মোজাফফর হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তনু খান, সহ-সভাপতি আবু তাহের, এমটিএ নিউইয়র্ক সিটির অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক নূর হোসেন সরকার, মর্টগেজ কর্মকর্তা শামনুন শিবলী, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ খান এবং এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা হাসান কবীর ডাবলু।
বনভোজন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন হাবিবুল হক হাবিব, সদস্য সচিব ছিলেন শফিকুল ইসলাম পাপন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ রোকনুর রহমান রোকন ও সাধারণ সম্পাদক হৃষিকেশ রায়সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যগণ।
সকালে নাশতার পর দিনব্যাপী চলে নানা ধরনের খেলাধুলা। শিশু-কিশোর ও নারীদের জন্য আলাদা প্রতিযোগিতা ছিল। বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। দুপুর ২টায় পরিবেশিত হয় দেশীয় খাবার, যা অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা কুড়ায়। খাবারের পর পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী কালোজাম মিষ্টি ও মশলাযুক্ত পান-সুপারি।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রোকসানা মির্জা ও গৌতম রায়। তাদের পরিবেশনায় গান ও নৃত্যে প্রাণ পায় অনুষ্ঠানটি। উপস্থিত সবাই নেচে-গেয়ে উৎসবে আনন্দে মেতে ওঠেন। বিকেলে পরিবেশিত হয় তরমুজ, ঝালমুড়ি ও সুস্বাদু চা।
এবারের বনভোজনে আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রথম পুরস্কার ছিল স্বর্ণের চেইন, দ্বিতীয় পুরস্কার টেলিভিশন, তৃতীয় পুরস্কার অ্যাপল ওয়াচ, আর চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে ছিল ল্যাপটপ। আরও ছিল একাধিক আকর্ষণীয় পুরস্কার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং এসোসিয়েশনের কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মোহাম্মদ রোকন, হৃষিকেশ রায়, হাবিবুল হক, শফিকুল ইসলাম, গৌতম রায়, কৈলাশ, রাসেল, সুরুজ, রহমান, মুশা, টিটু, পাপন রায়, পরিমল এবং রহিম।
দিনব্যাপী প্রাণবন্ত আয়োজনের পর সাধারণ সম্পাদক হৃষিকেশ রায় ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সভাপতি মোহাম্মদ রোকনুর রহমান রোকন উপস্থিত সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বনভোজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

