শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

শিরোনাম

দাবদাহে পুড়ছে উত্তর প্রদেশ, ১০ জেলায় লাল সতর্কতা

শুক্রবার, মে ২২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর প্রদেশ। ভয়াবহ গরমে রাজ্যের ১০ জেলায় লাল সতর্কতা জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর। আবহাওয়া কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব উত্তর প্রদেশে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার লখনউ আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বান্দা, চিত্রকূট, কৌশাম্বী, প্রয়াগরাজ, ফতেহপুর, প্রতাপগড়, মির্জাপুর, বারাণসী, ভদোহি ও জৌনপুর জেলায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বাগপত, মীরাট, গাজিয়াবাদ, হাপুর, গৌতমবুদ্ধ নগর, বুলন্দশহর, আলিগড়, মথুরা ও আগ্রাসহ ৩৪ জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে দেওরিয়া, লখিমপুর খেরি, সীতাপুর, হারদই, ফারুখাবাদ, লখনউ, বারাবাঁকি ও অযোধ্যাসহ ১৭ জেলায় জারি হয়েছে হলুদ সতর্কতা।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তর ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, হলুদ সতর্কতা মানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন, কারণ টানা তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা থাকে। কমলা সতর্কতা বোঝায় দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র গরমের আশঙ্কা। আর লাল সতর্কতা হলো অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সংকেত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছায়। সবচেয়ে বেশি ৪৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বান্দায়। প্রয়াগরাজে ছিল ৪৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি এবং বারাণসী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৪৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ ছাড়া সুলতানপুর ও হামিরপুরে ৪৫ দশমিক ২ ডিগ্রি, ফুরসতগঞ্জে ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি এবং ঝাঁসিতে ৪৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

রাজ্যের রাজধানী লখনউতেও অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হচ্ছে। সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি বেশি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার তারতম্যের কারণেও মানুষের অস্বস্তি বাড়ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের তাপপ্রবাহে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, বমি, শ্বাসকষ্ট ও হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই প্রচুর পানি পান, হালকা পোশাক ব্যবহার এবং দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দাবদাহের কারণে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় জনজীবনেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নির্মাণশ্রমিক, রিকশাচালক ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি গ্রীষ্মে ভারতের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে তাপপ্রবাহের তীব্রতা আগের বছরের তুলনায় বেশি। জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আপাতত বড় ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকায় দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনাও কম।