স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানো ও দুর্নীতির অভিযোগে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একজন বিচারক। একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) তদন্তকারী বিচারক হুয়ান কার্লোস পিনাদো এই আদেশ দেন। আদেশে তিনি উল্লেখ করেন, বেগোনা গোমেজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার আদালতে হাজিরা দিতে হবে। তবে বিচারের কোনো দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্ত স্পেনের রাজনীতিতে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে।
কী অভিযোগ বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে?
বেগোনা গোমেজের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তিনি নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সরকারি চুক্তি পাইয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া, একজন পরামর্শক নিয়োগে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় সফটওয়্যারের অনুপযুক্ত ব্যবহারের অভিযোগও এনেছেন বিচারক।
তবে গোমেজ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই মামলাটিকে তার বামপন্থি সরকারের বিরুদ্ধে রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিরোধীদের একটি ‘কুৎসা রটানোর প্রচারভিযান’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তার এই সরকার ২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় রয়েছে।
বিচারক পিনাদো জানিয়েছেন, সরকারি চুক্তির মাধ্যমে লাভবান হওয়া এক ব্যবসায়ী এবং গোমেজের হয়ে কাজ করা ওই পরামর্শককেও বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ আগামী বছর অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে চারদিক থেকে আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে, সাবেক সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী হোসে লুইস রদ্রিগেজ জাপাতেরোকেও অন্য একজন বিচারকের সামনে হাজিরা দিতে হয়েছে। সরকারি এয়ারলাইন বেলআউটে (অর্থনৈতিক সহায়তা) তার কথিত ভূমিকা এবং তার কার্যালয়ে পুলিশের তল্লাশির সময় দামি গয়না উদ্ধারের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাকে তলব করা হয়। তিনিও কোনো ধরনের অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছেন।
সরকার ও বিরোধীদের পালটাপালটি অবস্থান
আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে তীব্র সমালোচনা করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা। সোশ্যালিস্ট পার্টি একে ‘গণতন্ত্রের জন্য চূড়ান্ত কলঙ্ক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘বেগোনা গোমেজ নির্দোষ। গত দুই বছর ধরে তিনি রাজনৈতিক ও বিচারিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আজকের এই ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ সংযোজন।’
তবে স্পেনের রক্ষণশীল বিরোধী দলগুলো সরকারের ওপর আক্রমণ শানিয়েছে এবং আগাম নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
প্রধান বিরোধীদল পিপলস পার্টির মহাসচিব মিগুয়েল তেলাদো বলেন, ‘আমাদের আইনপ্রণেতা ও সংবিধান প্রণেতারা কখনো কল্পনাও করতে পারেননি যে, খোদ স্পেন সরকারই আমাদের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন দেখছি সরকার কীভাবে বিরোধী দলগুলোকে চুপ করানোর চেষ্টা করছে এবং বিচারক, রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী ও গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ করছে। যেকোনো আধুনিক গণতন্ত্রে এটি অকল্পনীয়।’
উল্লেখ্য, গোমেজের বিরুদ্ধে দুই বছরব্যাপী এই তদন্ত শুরু হয়েছিল ‘মানোস লিম্পিয়াস’ বা ‘ক্লিন হ্যান্ডস’ নামের একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অভিযোগের ভিত্তিতে। এই গোষ্ঠীটি এর আগে রক্ষণশীলদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা পরিচালনা করেছে।

