বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি।
শুক্রবার (১ আগস্ট) শুল্ক নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে এ ঘোষণার কথা জানানো হয়।
এ বিষয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, এই সিদ্ধান্ত হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যে শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। পাকিস্তানের ওপর ১৯ শতাংশ, আফগানিস্তানের ওপর ১৫ শতাংশ, ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ, ব্রাজিলের ওপর ১০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মালয়েশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ, মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ওপর ২০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে আলজেরিয়ার পণ্যের ৩০ শতাংশ, কানাডার ওপর ৩৫ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ইইউভুক্ত দেশগুলোর জন্য শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার (২৯ জুলাই)। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) দফতরের সঙ্গে তিন দিনব্যাপী আলোচনার শেষদিন ছিল বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই)।
আগের দুই দফা বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তবে পাল্টা শুল্ক কমানোর বিষয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
গত ২ এপ্রিল বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই দিন রোজ গার্ডেনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প কোন দেশের ওপর কত পারস্পরিক শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করছেন, তার একটি তালিকা তুলে ধরেন। প্রদর্শিত তালিকায় কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করে সে তথ্যও ছিল।
তালিকার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর বাংলাদেশের আরোপ করা শুল্কের হার ৭৪ শতাংশ। এজন্য বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা হয় পাল্টা ৩৭ শতাংশ শুল্ক। পরে ৯ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের ওপর ওই শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। এ সময় শুল্ক নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন দেশকে আলোচনার সুযোগ দেয় ওয়াশিংটন।
গত ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের তিন মাসের সময়সীমা শেষ হয়। এর আগের দিন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়ে ট্রাম্প জানান, বাংলাদেশের পাল্টা শুল্ক ২ শতাংশ কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়েছে।
যদিও ৯ জুলাইয়ের পর পাল্টা শুল্ক কার্যকর করেনি মার্কিন প্রশাসন। শুল্কের হার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য ৩১ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বিভিন্ন দেশকে সময় দেয় ট্রাম্প, যে তালিকায় বাংলাদেশও ছিল।

