বুধবার, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

নেপালে বন্যা-ভূমিধস: ২৯১ বিদেশিসহ ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ

বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় ভূমিকম্প পরবর্তী তুষারধস ও ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি ও ৯৩ জন নেপালি নাগরিক।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর ফলে রসুয়া জেলায় তুষারধস ও পরবর্তীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যায় কাঠমান্ডুর উত্তরের বিভিন্ন সড়ক, সেতু, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে এবং তিমুরে, সিয়াব্রুবেসি ও বেত্রাবতী এলাকা থেকে বড় ধরনের প্রাণহানির খবর আসছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ জন পুলিশ, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ ও ৪৪ জন সেনাসদস্যসহ কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তাও রয়েছেন।

উদ্ধার ও অনুসন্ধান কাজে সহায়তার জন্য ১৫টি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন দুর্গতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং মাইলুং গ্রাম থেকে আরও ১১৫ জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সিগন্যাল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা জানতে ও নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে।

নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়, ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয়, ১৭ জন মালয়েশীয়, ১২ জন ব্রিটিশ, ৪ জন দক্ষিণ আফ্রিকান, ৩ জন মার্কিন, ১ জন অস্ট্রেলীয় ও ১ জন ডাচ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আরও ১১িল জন বিদেশির জাতীয়তা এখনো স্পষ্ট নয়। একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকাজে যুক্ত থাকা ৮ জন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী চীন নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল তিব্বতেও। দুই দেশের সীমান্তবর্তী একটি বাণিজ্য কেন্দ্রে ভূমিধসে ব্যাপক হতাহতের খবর দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক তৎপরতা চালানো এবং গৌণ দুর্যোগ এড়াতে সতর্কতা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ত্রাণ ও উদ্ধারের জন্য তিব্বতে চীনের পক্ষ থেকেও একাধিক উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।