বুধবার, ২৬ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

হরমুজ প্রণালিতে সাময়িক নৌপথ চালুর আলোচনায় ইরান-ওমান

বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ উদ্যোগ নিয়েছে তেহরান।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হতো। তবে ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পথে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইরান ও ওমান জানায়, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘যৌথ সাময়িক নৌপথ’ চালুর বিষয়ে আলোচনা করেছে। একই সঙ্গে প্রণালিটি মাইনমুক্ত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির সব মাইন ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। এর আগেও তিনি একই ধরনের দাবি করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের তীব্রতা অনেকটাই কমে এলেও শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে আছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচল এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অচল হয়ে পড়ে। ওমানের আশ শিসাহ এলাকার প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল বা ১৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ঘটনাটি ঘটে। ওই এলাকা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখের কাছে অবস্থিত।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ট্রাম্পের কনিষ্ঠ ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রচারিত একটি ভিডিও সম্পর্কে তারা অবগত। প্রায় তিন মিনিটের ওই ভিডিওতে ২০ বছর বয়সি ব্যারনকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। তার হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে বলেও ভিডিওতে অভিযোগ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার চাপ

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেশটির সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

এদিকে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া বা সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আবার কিছু কর্মী পাঠাতে শুরু করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নিকট ভবিষ্যতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি কমেছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। তবে কিছু দূতাবাস শুরুতে সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালাবে।

অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কমায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টাকে ‘চরম আইনহীনতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং জানিয়েছে, অনেক দেশই ওয়াশিংটনের চাপের প্রচারণায় অংশ নেবে না বলে তারা আশাবাদী।

রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সমর্থন সংঘাত শুরুর পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। নভেম্বরে কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও রেকর্ড নিম্নমুখী হয়েছে।