কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) অধিগ্রহণকৃত কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন লেমশিখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেজামুল হক। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি পাঠক নন্দিত দৈনিক যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ‘সওজের জায়গা দখলে নিয়ে আ.লীগ নেতার ভবন নির্মাণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
সেই অবৈধ ভবন উচ্ছেদে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যথোয়াইপ্রু মারমা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তবে, এ ইউএনওর বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে গড়িমসি করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশের পর কক্সবাজার জেএম শাখা থেকে এসব ভবন উচ্ছেদ করতে বলা হয়। পরে ইউএনওকে সওজের পক্ষ থেকে দুই দফায় চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু, ইউএনও রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সওজকে কোনো ধরণের সহায়তা দিচ্ছেন না।
কুতুবদিয়ার পীর মালেকঘাট ও আজম সড়কের পাশে বিভিন্ন স্থানে অধিগ্রহণ করা জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সওজের কক্সবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ চেয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত আবেদন দেন। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের জেএম শাখার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম গত ১৭ মে একটি আদেশ দেন। উক্ত আদেশে সওজের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে কুতুবদিয়া ইউএনওকে নির্দেশ দেন।
এরপর সওজের চকরিয়ার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাহাত আলম কুতুবদিয়া ইউএনওকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার তারিখ ও সময় নির্ধারণ করে দুই দফায় লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু কুতুবদিয়ার ইউএনও কোনো ধরণের কর্ণপাত না করে রহস্যজনক কারণে দুই মাস ধরে নিরব রয়েছেন।
প্রকৌশলী মো. রাহাত আলম বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ইউএনওকে দুই দফায় চিঠি দিয়েছি। তিনি কল দিলেও ধরেন না। আবারও কল দিবো। না ধরলে পুনরায় চিঠি দেওয়া হবে। ’
এ ব্যাপারে জানতে ইউএনও ক্যথোয়াইপ্রু মারমার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারে কল দেওয়া হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। এর জেরে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম বলেন, ‘কেন অভিযান পরিচালনা করছেন না তা খোঁজ খবর নেওয়া হবে এবং শিগগিরইই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

