বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শিরোনাম

দুর্ঘটনার পর কিছু সঠিক সিদ্ধান্তই পারে একটি জীবন বাঁচাতে

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ডা. ঋভুরাজ চক্রবর্তী: দুর্ঘটনা কখনও পরিকল্পনা করে আসে না। রাস্তায় চলতে চলতে হঠাৎ একটি সড়ক দুর্ঘটনা, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে আকস্মিক আঘাত, খেলার মাঠে যেকোন আঘাত বা যেকোন জরুরি পরিস্থিতি – এসব মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়, এখন কী করব? দুর্ঘটনা-পরবর্তী প্রথম কয়েকটি মুহূর্ত আহত ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে, আর সে মুহূর্তে সঠিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তটাই হতে পারে জীবন-মৃত্যুর পার্থক্য।

ট্রমা চিকিৎসায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মডেল আছে, যা দুর্ঘটনার পর প্রথম ৬০ মিনিটকে বোঝায়। এ সময়ের মধ্যে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি রেসপন্স নিশ্চিত করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা, বা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকে। ‘গোল্ডেন আওয়ার’ পেরিয়ে গেলে জীবনের ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকে ও রোগীর অবস্থার অবনতি হওয়া শুরু হয়। তাই দুর্ঘটনার পর দেরি না করে ২৪/৭ ইমার্জেন্সি কেয়ারে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ।

অনেকেই মনে করেন যেকোন হাসপাতালে নিয়ে গেলেই হবে, কিন্তু এই ধারণা মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের দেশে সব হাসপাতাল ট্রমা রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম নয়। সাধারণ হাসপাতালে অপর্যাপ্ত ট্রমা সাপোর্ট রোগীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে, চট্টগ্রামবাসীদের জন্য সেরা গন্তব্যস্থল হতে পারে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম। এখানে দ্রুত ট্রায়াজ ও উন্নত ডায়াগনস্টিকসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক আধুনিক আইসিইউ সাপোর্টের ব্যবস্থাও এখানে আছে। তাই দ্রুত ট্রমা চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব বিধায় রোগীর সুস্থতার হারও বৃদ্ধি পায়।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে রয়েছে পাঁচটি বিশেষ ট্রমা প্রোটোকল, যা যেকোন পরিস্থিতিতে রোগীর সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে; অতিরিক্ত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ: দুর্ঘটনার পর গুরুতর রক্তপাতের ক্ষেত্রে এখানে তাৎক্ষণিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স এবং দ্রুত ব্লাড সাপোর্ট প্রদান করা হয়। এতে দ্রুত রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়, মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পায় এবং জীবন রক্ষা করা যায়।

মাথার আঘাত: মাথায় গুরুতর আঘাত বা হেড ইঞ্জুরি’র ক্ষেত্রে নিউরো ও ট্রমা টিম দ্রুত ও দক্ষতার সাথে পদক্ষেপ নেয়। সময়ের মধ্যে সঠিক চিকিৎসা স্থায়ী ব্রেইন ড্যামেজ প্রতিরোধ করে রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

বুকে আঘাত ও শ্বাসকষ্ট: বুকে আঘাতের পর তীব্র শ্বাসকষ্টের ক্ষেত্রে এখানে জরুরি ভিত্তিতে রেসপিরেটরি ইন্টারভেনশন ও অক্সিজেন সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় অপারেশন নিশ্চিত করা হয়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয় এবং শ্বাসরোধ জনিত মৃত্যুঝুঁকি সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়।

মেরুদণ্ড ও হাড়ের আঘাত: হাড় ভাঙা বা স্পাইনাল ইঞ্জুরি’র ক্ষেত্রে এখানে দক্ষতা ও সতর্কতার সাথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো এবং দ্রুত অর্থোপেডিক স্ট্যাবিলাইজেশন করা হয়। এতে জটিলতা হ্রাস ও রোগীর সম্পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।


শিশুদের ট্রমা: যেকোন দুর্ঘটনায় শিশুর আঘাত প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হয় ও বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন হয়। এখানে বিশেষজ্ঞ মাল্টিডিসিপ্লিনারি পেডিয়াট্রিক টিম অত্যন্ত যত্নের সাথে দ্রুত শিশুদের চিকিৎসা ও সুস্থতা নিশ্চিত করে।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের ট্রমা কেয়ার শুধু জরুরি মুহূর্তের চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থতার জন্য রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম। এখানে ২৪/৭ ইমার্জেন্সি সেবা সবসময় প্রস্তুত থাকে এবং অ্যাডভান্সড ইমেজিং ও টেকনোলজি’র মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় করা হয়। এছাড়া অর্থোপেডিক্স, নিউরো ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টিম একসাথে কাজ করে এবং গুরুতর কেস সামলানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডাক্তারদের ওপর রোগী ও স্বজনরা আস্থা রাখতে পারেন।


উল্লেখ্য, যেকোন ইনজুরিতে ইনফেকশন একটি গুরুতর বিষয়। আঘাত পাওয়া স্থানে ইনফেকশন হলে রোগীর ভোগান্তি ও খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ক্ষেত্রে এভার কেয়ার হাসপাতাল দিচ্ছে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা যেখানে জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য JCI স্বীকৃত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

এখানে ট্রমা-পরবর্তী সুস্থতার পথটিও সুনির্দিষ্ট। তাৎক্ষণিক আইসিইউ সাপোর্ট থেকে শুরু করে মাল্টিডিসিপ্লিনারি সার্জারি ও চিকিৎসা, তারপর ফিজিওথেরাপি ও নার্সিং কেয়ার এবং সবশেষ রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া, এই প্রতিটি ধাপে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম রোগীদের পাশে থাকে।

পরিশেষে বলা যায় – দুর্ঘটনার পর সময়ক্ষেপণ, বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক্তার কল করে চিকিৎসার চেষ্টা করা, রোগীকে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া, এই সব ভুল সিদ্ধান্তে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি বা জীবন বিপন্ন হতে পারে। দ্রুত স্ট্যাবিলাইজেশন, তাৎক্ষণিক ইমার্জেন্সি রেসপন্স এবং নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিমুক্ত রাখা ও দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

লেখক: ভিজিটিং সিনিয়র কনসালট্যান্ট
দুর্ঘটনা এবং জরুরি বিভাগ
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম
ইমার্জেন্সি ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 09610800444