ক্যাথলিক চার্চের নতুন নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছরে তুলনামূলকভাবে নীরব থাকলেও, পোপ লিও সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে সরব সমালোচকে পরিণত হয়েছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরানে চালানো আগ্রাসন থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তিনি বিশ্বনেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। খবর আল জাজিরার।
ক্যামেরুনে দেওয়া এক বক্তব্যে পোপ লিও বলেন, বিশ্ব এখন মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসকের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। তিনি যুদ্ধ পরিচালনায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, মানবিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও পুনর্গঠনের পরিবর্তে বিপুল সম্পদ ব্যয় করা হচ্ছে ধ্বংসযজ্ঞ ও অস্ত্রায়নে।
তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক পোস্ট দেন এবং সমালোচনা করেন।
পোপ আরও বলেন, যুদ্ধের পক্ষে ধর্মকে ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে সামরিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থকে বৈধতা দিতে চায়, তারা পবিত্রতাকে অপবিত্র করছে।
তিনি বলেন, এটি এক উল্টে যাওয়া বিশ্ব, যেখানে ঈশ্বরের সৃষ্টিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে—যা প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
এর আগে রোববারও ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোপের সমালোচনা করেন এবং তাকে ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি এমন একটি ছবি পোস্ট করেন যেখানে দেখা যায় যিশু তাকে আলিঙ্গন করছেন—যা নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
এদিকে পোপ লিও আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে ক্যামেরুনের রাজধানী ইয়াউন্দে পৌঁছে দেশটির ৯৩ বছর বয়সি প্রেসিডেন্ট পল বিয়াকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে ধনী ও ক্ষমতাশালীদের প্রভাবমুক্ত করতে হবে।
পরে তিনি ক্যামেরুনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর বানমেন্ডা সফর করেন, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
ঔপনিবেশিক ইতিহাস থেকে উদ্ভূত এই সংকটে ইংরেজিভাষী অঞ্চলগুলো স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে, যা ফরাসিভাষী কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে।
পোপের সফরের আগে বিচ্ছিন্নতাবাদী জোট তিন দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়, যাতে তার সফর নিরাপদ থাকে। তবে শান্তি আলোচনা এখনো অগ্রগতি লাভ করেনি।
তবুও পোপ লিও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সংঘাত এখনও ধর্মীয় যুদ্ধে রূপ নেয়নি এবং খ্রিষ্টান ও মুসলিম নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব।

